ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে, দাবি ডনাল্ড ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা চলছে। টানা তিন দিন কোনো ধরনের হামলার ঘটনা না ঘটার পর সোমবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি ভালো হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় তাদের অভিযান শুরু করতে দ্বিধা করবে না।

ট্রাম্প জানান, গত শুক্রবার তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মূলত মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে তিনি আলোচনার জন্য এই বাড়তি সুযোগ দিয়েছেন। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর বর্তমানে কিছুটা বিরতি দেখা যাচ্ছে। এর আগে জুন মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি টেকেনি। তখন মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তাদের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতাকে দুর্বল করা। বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংঘাত হ্রাসের খবরে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে।

এদিকে তেহরান সরাসরি কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, পাঁচ মাসের সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে এসেছে বলে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রচুর গোলাবারুদ ও মাঝারি পর্যায়ের অস্ত্র মজুত রয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুত তাদের আছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপারেশন এপিক ফিউরি প্রমাণ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার পরিণতি কী হতে পারে।