২৬ দেশের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ ও প্রশিক্ষণ শুরু

আন্তর্জাতিক আরচ্যারীর জগতে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ ও বিশেষ যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উপলক্ষে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ভবনের ডাচ বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের সভাপতি এবং ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল এবং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল রানা ও রুবেল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ সাইদুজ্জামান তুহিন এবং বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক।

কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল জানান, এই আয়োজনটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত—যৌথ ট্রেনিং প্রোগ্রাম এবং ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া প্রেসিডেন্ট চ্যালেঞ্জ কাপ। তিনি আরও বলেন, আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপসহ মোট ২৬টি দেশের প্রতিনিধি এবং ১৭টি দেশের আরচ্যার ও অফিসিয়ালরা এই মহাযজ্ঞে অংশ নিচ্ছেন। ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া, ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী, অলিম্পিক সলিডারিটি এবং বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, 'প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আমি ওয়ান ভিশন, ওয়ান এশিয়া এবং ইউনিক এশিয়া গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কেউ টপে আর কেউ বটমে থাকবে এমন অবস্থা দূর করে সবাইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্তরে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ আমাদের মাঠেই কোরিয়াকে দুবার হারিয়েছে। এ বছর প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া প্রেসিডেন্টের নামে এই চ্যালেঞ্জ কাপ প্রবর্তন করা হলো।' মিশ্র দলগত বা মিক্স টিম প্রতিযোগিতা সম্পর্কে তিনি জানান, অন্য দেশের মেয়ে ও ছেলেদের রেজাল্ট অনুযায়ী ম্যাচ সাজিয়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশের খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে খেলবে না।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হান বলেন, 'টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমিতে আয়োজিত এই প্রোগ্রামে বিভিন্ন দেশের আরচ্যার ও কোচদের যৌথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আরচ্যারী নিয়ম অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট চ্যালেঞ্জ কাপ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ২৬টি দেশ থেকে পুরুষ ও মহিলা বিভাগে আরচ্যারী, কোচ, কর্মকর্তা, অতিথি এবং টেকনিক্যাল অফিসিয়ালসহ মোট ১১৪ জন এই মহাযজ্ঞে অংশ নিচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই আয়োজন বাংলাদেশের আরচ্যারী এবং যুব আরচ্যারীকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।'

অংশগ্রহণকারী দেশসমূহ হচ্ছে আফগানিস্তান, ভুটান, রিপাবলিক অব চায়না, ভারত, ইরাক, জর্ডান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন ও স্বাগতিক বাংলাদেশ সহ মোট ১৭টি দেশ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, কোমোরোস, মিশর, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাইপে, তিউনিসিয়া ও উগান্ডা থেকে টেকনিক্যাল অফিসিয়াল ও অতিথি মিলে মোট ২৬টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ ও জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম আয়োজনে আর্থিক সহায়তা করছে ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়া এবং পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (কিউট)।