দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এই চিকিৎসা সরঞ্জামগুলোর কার্যকারিতা ও সম্ভাবনা যাচাইয়ের পর উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সভায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, দুটি পৃথক বিশেষজ্ঞ দল এই জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রগুলো তৈরি করেছে। এগুলো দেশের হাসপাতালগুলোতে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। দেশীয়ভাবে উৎপাদনের ফলে স্বাস্থ্যসেবার খরচ অনেকাংশে কমবে এবং বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে।
প্রধানমন্ত্রী সভায় বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এগুলোর মান যাচাই, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে সরকার সহায়তা প্রদান করবে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ভেন্টিলেটর মেশিনটি গুরুতর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এর আন্তর্জাতিক মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। অন্যদিকে, হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এটি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াও কাজ করতে পারে। ফলে বিদ্যুৎহীন এলাকা কিংবা অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহনের সময় এটি অত্যন্ত কার্যকর হবে।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বুয়েটের প্রো ভিসি ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ডা. মামুন শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

