আফগান সিরিজ ঘিরে বিক্ষোভের শঙ্কা, আয়ারল্যান্ডে নিরাপত্তা জোরদার

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। তালেবান শাসনে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চলাফেরা ও খেলাধুলাসহ সব ধরনের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রেক্ষাপটে এই সিরিজ আয়োজনের নীতিগত যৌক্তিকতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। এই বিতর্কের মধ্যেই ম্যাচগুলো ঘিরে মাঠের বাইরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড।

পাঁচ ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজটি যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই সম্পন্ন করা যায়, সে লক্ষ্যে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের পুলিশ সার্ভিসের (পিএসএনআই) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে আইরিশ ক্রিকেট বোর্ড। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর দেশটির নারীদের খেলাধুলার ওপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পার্ক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং খেলাধুলার মতো পাবলিক ক্ষেত্রগুলোতেও নারীদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। এমনকি নারী অ্যাথলেটদের বাড়িতে বাড়িতে তালেবান সদস্যদের অভিযান চালানোরও অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেক নারী ক্রিকেটার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

আফগান নারীদের ওপর এমন নিপীড়নের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে যেকোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলা থেকে বিরত রয়েছে। তবে আইসিসির বড় টুর্নামেন্টগুলোতে দলগুলো একে অপরের মুখোমুখি হয়ে থাকে। চলতি বছরের শুরুতে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়া সারাহ কিয়েন নিজেই স্বীকার করেছেন যে, আফগান নারীদের বর্তমান শোচনীয় পরিস্থিতির কারণে এই সিরিজটি আয়োজন করতে গিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘নৈতিক অস্বস্তি’ কাজ করছে। উল্লেখ্য, সারাহ কিয়েনকে সম্প্রতি আইসিসির একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে শরণার্থী আফগান নারী ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে।

সিরিজ চলাকালে সম্ভাব্য আন্দোলন বা প্রতিবাদের বিষয়ে পিএসএনআই জানিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের উপযুক্ত পুলিশি ব্যবস্থা থাকবে। পিএসএনআইয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নিজের মতামত প্রকাশ এবং সমাবেশ করার অধিকার মানুষের একটি মৌলিক মানবাধিকার। তবে তা এমনভাবে করতে হবে যাতে অন্যদের অধিকার ক্ষুণ্ন না হয় এবং কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত না হয়। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে পুলিশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মুখপাত্র ফেলিক্স জ্যাকাঙ্কস বলেন, খেলা চলাকালে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে পুলিশ এবং আয়োজক—উভয় পক্ষেরই সম্মান জানানো উচিত। একই সঙ্গে তিনি ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড, তাদের খেলোয়াড় ও আইসিসিকে আফগান নারীদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। ফেলিক্স মন্তব্য করেন, অনেক সরকারই খেলাধুলাকে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তালেবানও এই সিরিজটিকে নিজেদের প্রচার-প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে চাইবে, তাই বিশ্ব ক্রিকেটের সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।