অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট সফরের আগে পেস আক্রমণে বড় ধাক্কা লেগেছে। চোটের কারণে দলের অন্যতম কার্যকর পেসার নাহিদ রানাকে এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য তাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, কিন্তু সাইড স্ট্রেইনের কারণে শেষ পর্যন্ত ছিটকে গেলেন এই তরুণ পেসার।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানিয়েছেন, বিসিবি নাহিদ রানাকে নিয়ে শুরু থেকেই সতর্ক ছিল এবং তাকে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনার আওতায় রাখা হয়েছিল। বাশারের ভাষ্যমতে, “নাহিদ আমাদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনার মধ্যেই ছিল। এখন জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি কোন বোলার কত ম্যাচ খেলবে, কতটা বিশ্রাম দরকার। অস্ট্রেলিয়া সফরের দুই টেস্টের জন্য সে প্রস্তুত ছিল।”
চলতি বছর নাহিদ রানা দারুণ ফর্মে ছিলেন। তিনি এ পর্যন্ত ৪৪টি উইকেট শিকার করেছেন, যার মধ্যে চারবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। তার গতি ও বাউন্স অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে কার্যকর হবে বলে নির্বাচকরা আশা করেছিলেন। জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও তিনি দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হলেও ওয়ানডে সিরিজে ফিরে এসে তিনি ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের কোনো পেসারের সেরা ওয়ানডে বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পরবর্তী টি-টোয়েন্টি সিরিজে চোট পাওয়ায় তার অস্ট্রেলিয়া সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
বাশার আরও বলেন, “আমরা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে তাকে না খেলিয়ে সতর্ক ছিলাম। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ ছিল। তাকে কিছু ম্যাচ খেলতে হতো, কারণ ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকতে নিয়মিত বোলিং করাও প্রয়োজন। পেসারদের চোটমুক্ত রাখা খুব কঠিন। এই চোট অস্ট্রেলিয়াতেও হতে পারত। এটি দুর্ভাগ্যজনক।”
নাহিদের অনুপস্থিতিতে এখন তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেনের কাঁধে বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। নির্বাচক হাবিবুল বাশার অবশ্য এই পেস আক্রমণের ওপর আস্থা রাখছেন। এছাড়া, অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে সৌম্য সরকারকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, টেস্টে ওপেনিং নিয়ে চলমান সমস্যার সমাধানেই তাকে দলে নেওয়া হয়েছে।

