সামুদ্রিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরলেন বিজ্ঞানমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বুধবার (২৬ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাটমিক টেকনোলজিস লাইসেন্সড ফর অ্যাপ্লিকেশন্স অব সি (এটলাস) মন্ত্রী পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পারমাণবিক শক্তি সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশ গভীর দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু সংকট ও জ্বালানি চাহিদার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারমাণবিক শক্তির ভূমিকা অপরিসীম।

ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর বা এসএমআর প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই কম কার্বন নিঃসরণকারী প্রযুক্তি দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক। প্যারিস চুক্তির আওতায় বৈশ্বিক পারমাণবিক সক্ষমতা ২০৫০ সালের মধ্যে তিনগুণ করার উদ্যোগকে বাংলাদেশ সমর্থন করে। ঘনবসতিপূর্ণ ও সীমিত জ্বালানি সম্পদের দেশ হিসেবে জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনা বাংলাদেশের জন্য এখন সময়ের দাবি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, ইউনিট-১-এর ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব পারমাণবিক শক্তি পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে। রূপপুর প্রকল্প পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানির পথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার প্রতীক।

নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, উদ্ভাবনী রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহারে আন্তর্জাতিক সেফগার্ড ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ উন্নত এসএমআর প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এটলাস উদ্যোগ নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের এক প্ল্যাটফর্মে এনেছে, যা বেসামরিক পারমাণবিক সামুদ্রিক শিল্পের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করবে। বাংলাদেশ এই আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ মোট ১৯টি দেশ অংশ নিয়েছে।