মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপের মুখেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তার কার্যক্রম থেকে পিছু হটবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আকানে বলেন, আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও আদালত তার বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, আইসিসির মতো একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠানকে কখনোই বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। আমরা এই প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ হতে দিতে পারি না এবং আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে এর প্রতিরোধ করব।
ইসরায়েলি ও সম্ভাব্য মার্কিন কর্মকর্তাদের যুদ্ধাপরাধের তদন্তকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইসিসিকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে আকানে ছাড়াও আইসিসির সেনেগালিজ জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর আগেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগের তদন্ত পরিচালনার কারণে আদালতের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আইসিসির বৃহত্তম অর্থদাতা দেশ জাপান। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সরকারের নিন্দা যথেষ্ট জোরালো নয় বলে সমালোচনা থাকলেও, মঙ্গলবার তিনি জানিয়েছেন যে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা জাপানের দায়িত্ব। তাকাইচি আরও বলেন, আইসিসির বৃহত্তম অর্থদাতা হিসেবে আমাদের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে রক্ষা করতে হবে এবং জাপান যখন এবং যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানে হস্তক্ষেপ করবে।
তোমোকো আকানে আশা প্রকাশ করেন যে, আদালতের প্রধান অর্থদাতা হিসেবে জাপান মার্কিন চাপের মুখে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, আমি আশা করছি জাপান কম শক্তিশালী সদস্য দেশগুলোর কাছে পৌঁছাবে, যারা মার্কিন চাপে আইসিসি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে উৎসাহিত করবে।

