প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘোষণা নিছক কোনো বক্তব্য নয়, এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক তাৎপর্য। তবে একই সঙ্গে এই ঘোষণার মধ্যে বড় ধরনের ঝুঁকিও রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। পর্যবেক্ষকদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো—৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে না পারলে ১ জানুয়ারি থেকেই তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। এতে দলের নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম শেখ হাসিনার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক ‘স্টান্টবাজি’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার কৌশল হিসেবেই তিনি এই কথা বলছেন। তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমান বয়স ও পরিস্থিতির বাস্তবতায় তিনি সেই আইনি লড়াই মোকাবিলা করবেন কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে না ফিরলে তিনি হয়তো ট্রাভেল পাশ বা অবতরণের অনুমতির মতো নতুন কোনো ব্যাখ্যা সামনে আনতে পারেন, তবে তা তার রাজনৈতিক অবস্থানের ঘাটতি পূরণ করতে পারবে না।
রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বা না ফেরার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। তবে তিনি ফিরলে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হবে এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের চাঙাভাব দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে এবং তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ। বর্তমান সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও, জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিগুলো শেখ হাসিনার ইস্যুতে এক ধরনের ঐকমত্যে রয়েছে। ফলে দেশে ফিরলে তাকে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার নৈতিক অবস্থান নেই। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই এখন উত্তরাধিকার হিসেবে শেখ সেলিমের কথা বলেছেন। তিনি যদি সাহসী হন, তবে তিনি নিজেই দেশে ফিরুন, তাকে কেউ বাধা দিচ্ছে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনেক মামলা বিচারাধীন এবং একটি মামলায় তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত। তিনি দেশে এলে বিমানবন্দরেই গ্রেফতার হবেন এবং রায়ের কপি পাওয়ার পর ৩০ দিন পার হয়ে যাওয়ায় তার আপিল করার আর কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, শেখ হাসিনা ফিরলে দলটি নতুন করে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনায় শেখ হাসিনার ফেরার আগে সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদেরও দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সব ঝুঁকি মাথায় নিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত ফিরবেন কিনা, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল রয়েছে।

