সংসদীয় কমিটি ও বিলের রিপোর্ট নিয়ে সরকার-বিরোধী দলের উত্তপ্ত বিতর্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন এবং বিভিন্ন বিলের রিপোর্ট উত্থাপনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ না পাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা শেষ মুহূর্তে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে এসময় তাদের দু'জন সাংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলের অভিযোগ, সংসদীয় কমিটিতে তাদের আসন অনুপাতে সভাপতি পদ দেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা রক্ষা করা হয়নি, যা তাদের সংসদীয় কার্যক্রমে আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।

বুধবার রাতে সংসদ অধিবেশনে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের প্রতিবেদন উত্থাপন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাশেম (আরমান) প্রস্তাবিত আইনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এই আইনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে জবাবদিহিতার বাইরে রাখার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তিনি এটিকে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করে বলেন, এর ফলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা কঠিন হবে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, প্রস্তাবিত আইনটি ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। নতুন আইনে ভুক্তভোগীরা সরাসরি আদালতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং গুমের সংজ্ঞায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গুমের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির সম্পত্তি না থাকলেও সরকার ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব নেবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিল পাসের আগে সংশোধনী আনার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে মানবাধিকার কমিশন বিলের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ নওশাদ জমির। এ সময় বিরোধী দলের সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কমিটির বৈঠকে তাদের দেয়া লিখিত বক্তব্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, অথচ প্রতিবেদনে তাদের 'সক্রিয় অংশগ্রহণের' কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, বিরোধী সদস্যরা তাদের বক্তব্য 'নোট অব ডিসেন্ট' হিসেবে দিলে তা প্রতিবেদনে রাখা সম্ভব হতো। তবে স্পিকার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন বলে আশ্বাস দেয়া হয়। মানবাধিকার কমিশন বিলের সংশোধনীতে নারী কমিশনার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সদস্য এবং সাংবাদিক প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

অধিবেশনে বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি দলের আচরণে সংসদে থাকার আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে। কমিটি গঠন নিয়ে আগের দিনও আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু চিফ হুইপ সভাপতি পদ দেয়ার ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়।