সিলেটে বিআরটিসি কাউন্টার দখলে জামায়াত নেতা, পুলিশি তৎপরতা

সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থিত বিআরটিসি’র প্রধান কাউন্টারটি গত দুই বছর ধরে দখলে রেখেছেন বরইকান্দি এলাকার জামায়াত নেতা সোহেল রানা। এই কাউন্টার থেকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সোনাপুর ও ময়মনসিংহসহ দেশের সবকটি রুটে বিআরটিসি’র টিকিট বিক্রি ও সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীকে এখান থেকে বিতাড়িত করার পর কিশোরগঞ্জের আলিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী কাউন্টারের ইজারা নিয়েছিলেন। ৫ই আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর আলিম উদ্দিন অসুস্থতার অজুহাতে এলাকা ছাড়লে সোহেল রানা সমঝোতার ভিত্তিতে কাউন্টারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন।

মূল ইজারাদার হিসেবে আলিম উদ্দিনের নাম থাকলেও মূলত সোহেল রানাই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। আলিম উদ্দিন জানান, তিনি এক লাখ টাকা জামানত দিয়ে এজেন্ট হয়েছিলেন এবং ৫ই আগস্টের পর সোহেল রানার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। তিনি ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত তাকে নামমাত্র টাকা দিলেও পরবর্তীতে আর কোনো যোগাযোগ করেননি বা আয়ের হিসাব দেননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিআরটিসি’র নতুন পরিচালনা পর্ষদ গত ১৪ই জুলাই মো. রোকনুজ্জামানের মাধ্যমে নতুন ইজারাদার হিসেবে বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীকে দায়িত্ব প্রদান করে। নতুন ইজারাদার দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার মান্নান মার্কেটে নতুন কাউন্টার খুললেও সোহেল রানা তার পুরনো কাউন্টার থেকে সাইনবোর্ড সরাচ্ছেন না।

সোহেল রানা এখনো কুমিল্লার দুটি রুটে জোরপূর্বক বাস সার্ভিস পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন নতুন ইজারাদার দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী। তবে সোহেল রানা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি ইজারাদারের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে ব্যবসা করছেন এবং দু-একদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সিলেট বিআরটিসি’র ডিপো ম্যানেজার মো. রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন, ইজারাদারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে কাউন্টার পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই এবং বর্তমানে কাউন্টার পরিচালনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অবৈধ দখলদারিত্ব ঠেকাতে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত কাউন্টারের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এরপরও কার্যক্রম চালালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।