বড় বন্ধু দাবি করে কিলারকে আশ্রয় দেওয়া শিষ্টাচারবহির্ভূত: ডা. শফিকুর

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রতিবেশী দেশের সমালোচনা করে বলেছেন, যারা নিজেদের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু দাবি করে, তারা কীভাবে দেশের বড় কিলারকে নিজেদের দেশে জায়গা দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, শুধু আশ্রয় দেওয়াই নয়, কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ককে উপেক্ষা করে তাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। শফিকুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বোকা নয়; শত্রুর কাজ করে বন্ধুত্বের কথা বলা গ্রহণযোগ্য নয়।

রোববার বিকালে রাজধানীর ইস্কাটনের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান – ন্যায়বিচার, মেধার মূল্যায়ন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনার ভারত আশ্রয় প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তিনি (হাসিনা) এখন দাবি করছেন গোপালগঞ্জে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাকে অন্য জায়গায় নেওয়া হয়েছে। অথচ তথ্য বেরিয়ে আসছে যে, দেশত্যাগের আগে তিনি বারবার প্রতিবেশীর কাছে ফোন করে আশ্রয় চেয়েছেন। তিনি বলেন, জাতি এই তামাশা আর শুনতে চায় না। এছাড়া ফ্যাসিবাদকে একটি ভাইরাস হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি সতর্ক করেন যে, নতুন করে যেন কেউ ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হয়।

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘের হিসেবে এই আন্দোলনে প্রায় ১৪ শ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ৬ থেকে ৭ শ ছিলেন সাধারণ শ্রমিক। তিনি বর্তমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, মেধাতান্ত্রিক সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তার বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে দেশপ্রেমিক ও মেধাবীদের নাজেহাল করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলে যারা আছেন, সবাই একসময় মজলুম ছিলেন। এখন মজলুমরা জালিম হতে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং ক্ষমতার দম্ভে দিশাহারা না হওয়ার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনডিএফ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন। এতে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য সাংবাদিকতা ও মানবিক সহায়তায় অসামান্য অবদানের জন্য ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।