বিরোধীরা স্বৈরাচার হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র চার থেকে পাঁচ মাস হলেও এর মধ্যে দেশে অনেক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে বিরোধী দল আগের মতো নেতিবাচক ভূমিকা পালন শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচার হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতেন, বিরোধী দল এখন সেই একই ভাষায় কথা বলছে। কথায় কথায় তারা বলছে কাজ করতে দেওয়া হবে না বা চলতে দেওয়া হবে না।

গতকাল দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডি-এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে সরকার কাজ করছে। আলাদিনের চেরাগের মতো এসব রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে একটিও গ্যাস ও তেলের খনি অনুসন্ধান করেনি এবং বাপেক্সকে পঙ্গু করে রেখেছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তেল-গ্যাস কূপ খননের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছে।

মন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে আমদানিতে ৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। জাহাজ ভাড়া বাড়ার কারণে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, বিরোধীরা যে ভাষায় কথা বলছে তা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। সরকার মেজরিটি নিয়ে দেশ চালাচ্ছে, কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সংসদে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

লাভ শেয়ার বিডি’র পরিচালক জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য এড. রেজেকা সুলতানা ফেন্সি এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু। এছাড়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে রংপুর অঞ্চলের ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে ২৫টি চা দোকান ঘর হস্তান্তর করা হয়।