সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি ডন কারাগারে

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার ভোর ৫টার দিকে বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। বর্তমানে তাকে সিআইডির হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রবিবার বিকেলে ডনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি জামিনে মুক্ত হলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং আবারও তার পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এই আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ মারা যান। শুরুতে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করলেও পরে তা হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় সিআইডি। এতে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। তবে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এরপর ২১ অক্টোবর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়, যেখানে সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, মৃত্যুর আগে সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করেছিলেন। এ কারণে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে রমনা থানার অপমৃত্যুর মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের অনুরোধ করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। আগামী ৩০ আগস্ট এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।