দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না, যার ফলে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। উৎপাদন ঘাটতির এই সংকটময় মুহূর্তে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটটি আবারো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে, যা সারা দেশে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত কয়লাচালিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কিছুদিন আগেও ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। বর্তমানে কয়লার পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও কেন্দ্রটির উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কী কারণে ইউনিটটি বন্ধ হয়েছে তা খুঁজে বের করতে কাজ চলছে এবং দ্রুত উৎপাদনে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ইউনিট-২ বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনো ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর সেটি সরাসরি পরিদর্শন বা মেরামত করা সম্ভব নয়। প্রথমে ইউনিটটিকে কুল-ডাউন বা ঠাণ্ডা করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় এবং বর্তমানে সেই প্রাথমিক প্রক্রিয়া চলছে। ইউনিটটি পরীক্ষার জন্য ভারত থেকে দু’জন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা রয়েছে। তারা এসে পর্যবেক্ষণ করার পর বলা সম্ভব হবে এটি কবে নাগাদ উৎপাদনে ফিরবে। আপাতত পরিস্থিতি স্পষ্ট হতে দুইদিন সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে, আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ হওয়া ইউনিট থেকে রোববার দুপুর থেকে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সূত্র বলছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আদানি থেকে ১ হাজার ৪৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে সারা দেশে ২ হাজারের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে।
কয়লার পর্যাপ্ত মজুত আছে।সূত্র বলছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আদানি থেকে ১৪৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে।

