সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব রটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে কিছু মানুষ নানাভাবে গুজব রটাচ্ছে। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি সচিবালয় থেকে পায়ে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান।

জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষকে উস্কে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা বিদ্বেষ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে অঙ্গীকারবদ্ধ।

শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও আদর্শের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় অত্যাচারী শাসক কংসের পতনের জন্য শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। বাংলাদেশেও দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কংসরূপী ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে এবং দেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে দেশ পুনর্গঠনের সময়। বৈচিত্র্যময় সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলনই সৌন্দর্য। বর্তমান বিশ্বে 'সংখ্যালঘু' বা 'সংখ্যাগুরু' পরিচয় মুখ্য নয়; সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্বাধীনতার ঘোষকের 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ' দর্শনের কথা তুলে ধরেন।

সমাজবিরোধী অপশক্তি যাতে সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সরকার এই লক্ষ্য পূরণে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।