জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি সবচেয়ে বেশি ভোট পেতে পারে বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দলটি যদি এককভাবে সরকার গঠনের মতো ফলাফল পায়, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো কোনো জার্মান রাজ্যে কট্টর ডানপন্থীদের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবে। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেশটিতে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত বাধা ভেঙে ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের খবরে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ভীতি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান থেকে তিন বছর আগে জার্মানিতে আসা ৪৪ বছর বয়সী ফাতেমেহ জানান, তিনি প্রতিদিন দুশ্চিন্তায় থাকেন যে এএফডি ক্ষমতায় এলে তাদের হয়তো ইরানে ফেরত পাঠানো হতে পারে। একজন ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান হিসেবে নিজ দেশে ফিরলে তার মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জার্মান কর্তৃপক্ষ এএফডিকে ‘দৃঢ়ভাবে ডানপন্থী উগ্রবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে অভিবাসন নীতিতে কঠোর পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এর মধ্যে শরণার্থী শিশুদের আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থা, একীভূতকরণে বরাদ্দ অর্থ ‘রিমিগ্রেশন’ বা অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর কাজে ব্যবহার এবং ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের স্বীকৃতি বন্ধের মতো দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অভিবাসী সংগঠনগুলোর জোট লামসার কর্মকর্তা উন্দ্রা ড্রেসলার জানিয়েছেন, অভিবাসী পটভূমির মানুষের কাছে এই নির্বাচনটি তাদের অস্তিত্বের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ণবাদী হামলা ও হয়রানির ঘটনা বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অভিবাসীরা দেশ ছেড়ে চলে গেলে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। রাজ্য মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, রাজ্যের হাসপাতালগুলোতে কর্মরত চিকিৎসকদের ২৭ দশমিক ১ শতাংশের জার্মান পাসপোর্ট নেই। গ্রামীণ এলাকায় বিদেশি চিকিৎসকদের ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন।
ম্যাগডেবার্গের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যেও এএফডির সম্ভাব্য জয় নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। সিনাগগের রাব্বি ইগর মেন্ডেল ইতকিন সতর্ক করেছেন যে, ইতিহাস ও হলোকাস্টের শিক্ষা দুর্বল হয়ে পড়লে ভবিষ্যতে একই ধরনের বিপদ আবারও ফিরে আসতে পারে। সিনাগগ কমিউনিটির সদস্য মারিয়া শুবার্ট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, স্যাক্সনি-আনহাল্টের ফলাফল দেখে জার্মানির অন্যান্য রাজ্যগুলোও একই পথে অগ্রসর হতে পারে।

