বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণের সুবিধা দিচ্ছে ব্যাংক

বিনা সুদে প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন খরচ মেটানোর লক্ষ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রদানের একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী রোববার ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামে এই বিশেষ সুবিধাটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ঋণের অর্থ কোনোভাবেই নগদে উত্তোলন করা যাবে না। এমনকি গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ওয়ালেটেও এই অর্থ জমা রাখা সম্ভব হবে না। অনুমোদিত ঋণের অর্থ সরাসরি নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা বা বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ, ভ্রমণ ব্যয়, সরকারি সেবার ফি, কর, বিমার প্রিমিয়াম এবং ঋণ বা আমানতের কিস্তি পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

প্রাথমিকভাবে ব্যাংকগুলো অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে বা পাইলট ভিত্তিতে এই সুবিধা পরিচালনা করবে। পাইলট কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনার পর নিজ নিজ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হবে। ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহকেরা ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের মেয়াদ পাবেন। এ ক্ষেত্রে সুদের পরিবর্তে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি গ্রহণ করবে। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা সেবা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা সেবা ফি প্রযোজ্য হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে গ্রাহককে বাড়তি কোনো সুদ বা আগাম পরিশোধের ফি দিতে হবে না। তবে সময়সীমা পার হলে জরিমানা আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট ঋণের দৈনিক সেবা ফির চেয়ে বেশি হতে পারবে না। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক নিবন্ধন থেকে শুরু করে ঋণ অনুমোদন ও পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করতে হবে। লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওটিপি (এককালীন পাসওয়ার্ড) বা একাধিক স্তরের নিরাপত্তা যাচাই পদ্ধতি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সুবিধা পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এই সুবিধার মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রাহকেরা সহজে ছোট অঙ্কের স্বল্পমেয়াদি ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।