প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ০৬। রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমে আসায় ক্রেতাদের মধ্যে সামান্য স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর সঙ্গে নতুন করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের চাপ আরও বেড়েছে। নিত্যপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের মুদি ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন বাবলু জানান, ভোজ্যতেল, আটা-ময়দা, চিনি, ডাল, গুঁড়া দুধ, সাবান ও ওয়াশিং পাউডারের মতো নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা বেশ চাপের মুখে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পেঁয়াজের দামও আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫ থেকে ১০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নেমেছে। তবে সব সবজির দাম সমানভাবে কমেনি।
মাছের বাজারে কোনো স্বস্তি নেই। তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০-২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০-৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দামও বেশ চড়া; ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২,২৫০ থেকে ২,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছ ব্যবসায়ী কাদের মিয়া জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে মাছের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে গেছে এবং সহসা তা কমার সম্ভাবনা কম।
মুরগি ও ডিমের বাজারেও বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০-২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা এবং ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মধুবাগের বাসিন্দা আজমিরা খাতুন জানান, সবজির দাম কিছুটা সহনীয় হলেও মাছ ও ডিমের অস্বাভাবিক দাম তাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
বুধবার সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লিটারপ্রতি ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করেছে। ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন খরচের অজুহাতে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও সরকার ৫ টাকা সমন্বয় করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভোজ্যতেলের সরবরাহে সংকট নেই, তবে মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত মনিটরিং, জেলা পর্যায়ের টাস্কফোর্স এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

