দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হঠাৎ করেই অস্থিরতা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল রাজধানীসহ দেশের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সংঘাতের ঘটনায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় দিনভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে আহতদের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে সেখানেও ছাত্রদলের হামলার শিকার হতে হয় তাদের।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। অনুষ্ঠানে জকসু ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়াতে চাইলে ছাত্রদল বাধা দেয়। পরে অডিটোরিয়ামের বাইরে অবস্থান নিলে ছাত্রদল তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষকও হেনস্তার শিকার হন। এতে জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানাসহ অন্তত ৪০-৫০ জন আহত হন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে আহতদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার আহ্বায়ক সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান। ভিসি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন জানিয়েছেন, প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ঢাকা কলেজেও ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বেলা ৩টার দিকে কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১১ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিলাদ হোসেন। তিনি জানান, ঢাকা কলেজের অডিটোরিয়ামে কর্মী সভায় যাওয়ার সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বহিরাগত নিয়ে হামলা করে। অন্যদিকে ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানিয়েছেন, তাদের পূর্ব ঘোষিত দোয়া মাহফিলে ছাত্রদল হামলা করেছে।
পুরান ঢাকার সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সামনেও ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ইসলামিক আন্দোলনের আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সাধারণ সম্পাদক জানান, তার রুমসহ প্রত্যেকটা রুমে লুটপাট চালিয়েছে ছাত্রশিবিরের সদস্যরা। কম্পিউটার, ল্যাপটপ, আসবাবপত্র ও টাকা-পয়সা সব নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে রংপুরে বেরোবি ক্যাম্পাসেও ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের একটি ব্যানার প্রদর্শন নিয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক শীর্ষ ৫ নেতা এবং বিএনপি নেতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গতকাল সরজমিন ক্যাম্পাসে দেখা যায়, ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রদলকে ধাওয়া করার সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বহিরাগত অনেকেই অবস্থান করছিলেন। এ সময় সাংবাদিকরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেন। সংঘর্ষের পর প্রায় ৪ ঘণ্টা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করেন। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দফায় দফায় মধ্যরাত পর্যন্ত চলে। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, আগে ছাত্রদল তাদের আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে হামলা চালিয়েছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি তাদের।

