বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের জীবনযাত্রাকে সহজ ও গতিশীল করে তুললেও এর অপব্যবহার বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। চ্যাটজিপিটি, জেমিনি কিংবা মিডজার্নির মতো জনপ্রিয় টুলগুলো ব্যবহারের সময় অসচেতনতার কারণে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য চুরির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সুরক্ষা বজায় রাখতে বেশ কিছু জরুরি সতর্কতা ও নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
ব্যক্তিগত সুরক্ষায় প্রধান করণীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করা। এআই চ্যাটবট বা বিভিন্ন টুলে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক বা আর্থিক তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও আপলোড করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এসব তথ্য এআই মডেলের প্রশিক্ষণের জন্য তাদের সার্ভারে সংরক্ষিত হতে পারে। এ ছাড়া সাইবার অপরাধীরা এআই ব্যবহার করে নিখুঁত ফিশিং ই–মেইল, মেসেজ বা ভয়েস ক্লোনিং বা ডিপফেক তৈরি করছে, তাই অচেনা বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করার আগে তা ভালোভাবে যাচাই করুন।
এআই সুবিধার নামে থার্ড-পার্টি অনির্ভরযোগ্য অ্যাপ বা ব্রাউজার এক্সটেনশন ইনস্টল করা বিপজ্জনক, যা ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ছড়াতে পারে। এআই অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং নিরাপত্তার অতিরিক্ত স্তর হিসেবে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা 2FA চালু রাখুন। এআই অনেক সময় ভুল বা কাল্পনিক তথ্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করে, যাকে হ্যালুসিনেশন বলে। তাই আইনি, চিকিৎসা বা গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত তথ্যের ক্ষেত্রে অন্ধ নির্ভরতা এড়িয়ে মূল উৎস থেকে সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞ জেনিফার আলমের মতে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কিছু মূল নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। স্বচ্ছতা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে এআই দিয়ে তৈরি যেকোনো কনটেন্ট, ছবি বা ভিডিও প্রকাশের সময় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এআই থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সত্যতা নিজে যাচাই করে নিতে হবে। গোপনীয়তা রক্ষায় এআই টুলে কারও ব্যক্তিগত বা স্পর্শকাতর তথ্য যেমন নাম, ফোন নম্বর বা মেডিক্যাল রেকর্ড ইনপুট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
কপিরাইট রক্ষায় অন্যের তৈরি কনটেন্ট বা আর্টওয়ার্ক হুবহু কপি করা থেকে বিরত থেকে সৃজনশীলতায় মৌলিকত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন। মানবিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে এআই দিয়ে তৈরি কাজের চূড়ান্ত দায়ভার ব্যবহারকারীর ওপর বর্তায় এবং সমাজ বা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি করা নিষিদ্ধ। পক্ষপাতিত্ব পরিহারের দিকে খেয়াল রেখে প্রম্পট তৈরি করা এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। সবশেষে, নিরাপত্তা ও আইনের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী হ্যাকিং, ম্যালওয়্যার তৈরি বা যেকোনো বেআইনি কাজে এআইয়ের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। বিশেষজ্ঞরা সঠিক ও সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো সাইবার নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিতে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সাইবার হেল্পলাইনের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এআই ব্যবহারের আবশ্যকীয় নীতিমালা (গার্ডরেল) বিশেষজ্ঞ জেনিফার আলমের মতে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কিছু মূল নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি: ১.

