বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে 'সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সব শহিদ, যুদ্ধাহত এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর শহিদ সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ও আহত সেনাসদস্যদের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা জানান।
পদোন্নতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। তিনি নির্বাচনি পর্ষদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যোগ্য কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাদের পেশাগত সক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সামগ্রিক কর্মদক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর এই অবদানের জন্য তিনি সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এর আগে সেনাসদরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। সেনাবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার মধ্যেও উপস্থিত হয়ে পদোন্নতি পর্ষদ উদ্বোধন করায় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং পরিদর্শন বইয়ে নিজের মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচনায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়।

