প্রিন্ট মিডিয়ার অনলাইন সংস্করণগুলোতে প্রতিদিন খবরের যে প্রবাহ দেখা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক ও সমাজ বিশ্লেষক নিয়ন মতিয়ুল। তার মতে, ওয়েবসাইটের প্রথম পাতায় এখন কেবল প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বক্তব্যধর্মী সংবাদের আধিক্য দেখা যায়। অথচ গ্যাস সংকট, শ্রমবাজার, বেকার সমস্যা এবং স্থানীয় জনদুর্ভোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকে। তিনি অভিযোগ করেন, ডেস্কের সিনিয়ররা ইরান, খোমেনি বা নেতানিয়াহুর মতো আন্তর্জাতিক খবরের ভিড়ে মফস্বলের অতি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলোকে পাত্তা দেন না।
এক ডেস্ক সিনিয়রের সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে লেখক জানান, সরকারের ভাষ্য প্রচারের জন্য বিটিভি ও বাসসকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেখানে সংবাদ পোর্টালগুলোর ভাগ বসানো অমানবিক কি না—এমন প্রশ্ন তিনি করেছিলেন। জবাবে ওই সিনিয়র সাংবাদিক ১০ বছর আগের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জানান, তখন প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের খবর কম প্রচার করায় অনেক পোর্টালকে সরকারবিরোধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তবে লেখক মনে করেন, সেই যুগ এখন আর নেই। সরকারপ্রধান নিজেও দলীয় সাংবাদিকতা না করে সমস্যাগুলো তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
লেখক উল্লেখ করেন, সরকারপ্রধান নিজে গভীর রাতে গাড়ি চালিয়ে সিটির ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যা চিহ্নিত করতে সড়কে নেমেছিলেন। কিন্তু এই ব্যতিক্রমী ঘটনা নিয়ে করা প্রতিবেদনে সাংবাদিকরা সরকারপ্রধানের অসন্তোষের বিষয়টি ফোকাস না করে কেবল আবেগপ্রবণ সংবাদ তৈরি করেন। লেখকের মতে, বিবর্তনবাদের নিয়মেই প্রাণীরা টিকে থাকার জন্য খাপ খাইয়ে নেয়। যেখানে সাহসী ও জনকল্যাণমূলক সাংবাদিকতা অলাভজনক, সেখানে সরকারি আবেগী সাংবাদিকতা অনেক বেশি নিরাপদ ও টেকসই।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘আমি দেখছি কিছুই বদলায়নি’ উক্তিটির প্রসঙ্গ টেনে লেখক বলেন, এই মন্তব্য প্রমাণ করে গণমাধ্যম সঠিক পথেই আছে। সবশেষে এক সংবাদকর্মীর মন্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, অসুস্থ ও ট্রমাটাইজড গণমাধ্যমের সুস্থতার জন্য ভালো ডাক্তার ও হাসপাতালের প্রয়োজন, যা নিয়ে কেউ আলোচনা করছে না।

