জুলাই আন্দোলনের সাফল্য জনগণের, দেশ পুনর্গঠনে আহ্বান তারেক রহমানের

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ-এ (কেআইবি) আয়োজিত 'গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাফল্য কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং এর কৃতিত্ব এই দেশের সর্বস্তরের জনগণের। বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই মাঠ ছেড়ে যায়নি, বরং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিল।

দেশ পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের আন্দোলন ও তর্ক-বিতর্কের সময় শেষ হয়েছে; এখন সময় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে দেশ গড়ার কাজে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সজাগ থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ৩১ দফার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে এবং ব্যাংক, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাধীনতার এত বছর পরও উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা না থাকাটা দুঃখজনক। আগামী ৩-৬ মাসের মধ্যে মেডিকেল কলেজ ও জেলা পর্যায়ে ৫০ বেড এবং জেনারেল হাসপাতালে ১০ বেডের ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে। এছাড়া আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ১০ বেডের ডায়ালাইসিস সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বাস্তবতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার জ্বালানি খাতকে পকেট ভারী করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই খাতকে পুনর্গঠনে সময়ের প্রয়োজন। মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি ও মালয়েশিয়ার সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা এখন আর শুধু দলের নয়, এটি জনগণের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতি, ভঙ্গুর প্রশাসন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা পেয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সভায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।