বরিশালে এক নাগরিক সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত নতুন আইন (প্রপার্টি ট্রান্সফার-২২৬) বাতিল করা না হলে দেশব্যাপী সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের তৌহিদী জনতা কোরআন ও সুন্নাহর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন কখনোই মেনে নেবে না।
শনিবার দুপুর ২টায় বরিশাল টাউন হলে জেলা ও মহানগর খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মামুনুল হক অভিযোগ করেন, ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার আগে বিএনপি বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। অথচ গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী ‘প্রপার্টি ট্রান্সফার-২২৬’ নামে একটি নতুন আইন পাস করেছেন, যা দেশের আলেম সমাজ কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে।
খেলাফত মজলিসের আমির আরও বলেন, আল্লাহর কোরআন এবং রাসুলের সুন্নাহ এ দেশের মুসলমানদের কাছে সর্বোচ্চ সম্মানের স্থান জুড়ে রয়েছে। ইসলামকে দেশ থেকে নির্বাসনে পাঠানোর যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই বিধানগুলোকে অকার্যকর করার দুরভিসন্ধি থেকে সরে না আসলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে যা সংশ্লিষ্টদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি হবে সর্বদলীয় ও নির্দলীয় একটি গণআন্দোলন।
সংবিধান সংস্কারের দাবি তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, আমরা চাই সংস্কারের মাধ্যমে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পুনঃস্থাপন করা হোক, আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা হোক, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হোক এবং জুলাই বিপ্লবের সনদ সংবিধানে যুক্ত করা হোক। জুলাই সনদ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
পরিশেষে বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটাধিকারকে উপেক্ষা করা যাবে না। গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হবে, অন্যথায় কোনো শক্তিই ক্ষমতা রক্ষা করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ২০:৩৪ মিনিটে এই সমাবেশের খবরটি প্রকাশ করা হয়।

