সংসদে কথা বলতে না দেওয়ায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি: জামায়াত আমির

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এক পথসভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ ও দেশ কোনোটিই ভালো নেই। বিদ্যুৎ ও সারের তীব্র সংকটে সাধারণ মানুষ চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে। জনগণের এই কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরার চেষ্টা করা হলেও সরকার তাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। এ কারণেই তারা বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে নেমেছেন।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামের একটি স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি মানিকপোটল গ্রামের আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে সান্ত্বনা জানান।

পরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জামায়াত আমির দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বেহায়াপনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে মানুষ যখন ঘরে ফেরে, তখন বিদ্যুতের অভাবে একটু শান্তিতে বিশ্রামও নিতে পারে না।

বিদ্যুৎ সংকটের তীব্রতা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, এখন বিদ্যুৎ যায় না, বরং মাঝে মাঝে আসে। আর সংসদে এই বিষয়ে কথা বললে বিদ্যুৎমন্ত্রী অদ্ভুত অজুহাত দিয়ে বলেন, ‘কারেন্টের লাইনগুলো লম্বা হওয়ার কারণে আসতে দেরি হয়।’

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন যে, দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তারা সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য দেশজুড়ে সংকট থাকলেও সংসদে থাকা মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের কাছে কোনো সংকট নেই।

কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষকেরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না। ১ হাজার ৪০০ টাকার সার এখন ২ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এই পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য সরকারকে দায়ী করে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ‘ঘাটে ঘাটে চোর বসিয়েছে’।

উক্ত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।