জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই কিংবদন্তি কবি ছোটবেলা থেকেই ‘দুখু মিয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং চরম দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে বড় হয়েছেন।

মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার লেখায় সাম্য, মানবতা, প্রেম, স্বাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিবাদের সুর ফুটে উঠেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার কবিতা ও গান সাধারণ মানুষের মনে প্রতিরোধের আগুন জ্বালিয়েছিল।

কবি নজরুল ছিলেন একাধারে সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। বাংলা সংগীতজগতে বৈচিত্র্যময় রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে তিনি অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছেন। তিনি চির প্রেমের কবি এবং যৌবনের দূত হিসেবে পরিচিত। তার বিদ্রোহী সত্তার পাশাপাশি প্রেমিক রূপটিও সমানভাবে সমাদৃত।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয় এবং তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা প্রদান করা হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত হন।

নজরুলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে এবারের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।