ভোলার লালমোহন উপজেলায় দুধে পানি মেশানোর অভিযোগে এক বিক্রেতার মাথায় দুধ ঢেলে দিয়ে অভিনব শাস্তি দিয়েছেন পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক মো. জামাল। বুধবার সকালে পৌরশহরের মহাজনপট্টি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী দুধ বিক্রেতা মো. মনজু উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ফুলবাগিচা এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দুধে পানি মেশানোর অভিযোগে পৌর পরিদর্শক মো. জামাল ওই বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলছেন এবং একপর্যায়ে তার মাথায় দুধ ঢেলে দিচ্ছেন। সেখানে উপস্থিত লোকজন এই কাণ্ড দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দুধে ভেজাল প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আইনানুগ জরিমানা না করে এভাবে জনসম্মুখে মাথায় দুধ ঢেলে দেওয়া অমানবিক ও অপমানজনক বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
লালমোহনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ি ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পৌর কসাইখানা পরিদর্শক মো. জামাল দাবি করেন, ল্যাকটোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করে মনজুর প্রায় ২০ কেজি দুধে অতিরিক্ত পানি মেশানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি জানান, পৌরপ্রশাসক তাকে দুধসহ আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর মনজু পুনরায় দুধ বিক্রির চেষ্টা করেন। জামালের দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় লোকজনই ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে এই শাস্তি দেওয়ার কথা বলেন।
অন্যদিকে, লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরপ্রশাসক মো. সিফাত বিন সাদেক জানান, বিক্রেতার মাথায় দুধ ঢালার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
ল্যাকটোমিটারে দুধের মাত্রা ২০ থাকার কথা থাকলেও ওই দুধে মাত্রা পাওয়া যায় ৩০।

