ঘুষের বিনিময়ে মাদক মামলার আসামিকে বিদেশ পালাতে সহায়তা

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪: ২৯। রংপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে মাদক মামলার চার্জশিট থেকে নাম বাদ দিয়ে এক আসামিকে বিদেশ পালানোর সুযোগ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন ডিএনসি রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক দিলারা রহমান এবং উপপরিদর্শক মেহেদুল ইসলাম সরদার। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৮ জুলাই ডিএনসির রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোজাফফর হোসেন শাহের নেতৃত্বে মিঠাপুকুরের রাণীপুকুর জুমা খানপাড়া এলাকার মো. খালেদ খানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। এ সময় খালেদ খানের স্ত্রী নাজমা বেগমকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। মিঠাপুকুরের মাদক সম্রাট মোরছালিন মিয়ার কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের পর তাকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

আদালতে দাখিল করা চার্জশিট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চার্জশিটের তিন নম্বর কলামে তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের নামের জায়গায় অভিযুক্ত খালেদ ও মোরছালিনের নাম না দিয়ে ২ নম্বর কলামে চার্জশিট থেকে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার কলামে নাম দেওয়া হয়। এজাহারে মোরছালিন কক্সবাজার থেকে ৯ হাজার ইয়াবা এনে খালেদের বাড়িতে মজুত করেছেন উল্লেখ থাকলেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মেহেদুল এবং ডিএনসির উপপরিচালক দিলারা রহমানের যোগসাজশে তাকে হালকা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে বিদেশ যাওয়ার পথ সুগম করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মোরছালিন গত ২১ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টায় ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব গেছেন। অথচ ৬ সেপ্টেম্বর ইয়াবা মামলায় তার আদালতে হাজিরার তারিখ ছিল। গোপন সূত্রে জানা যায়, ওমরাহ শেষে একই টিকিটে ১৯ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে এই মাদক কারবারির। তবে সৌদি আরবে পৌঁছেই স্থায়ীভাবে সেখানে অবস্থানের জন্য বিভিন্নভাব তদবির চালাচ্ছেন।

মিঠাপুকুর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ এফ এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, চার্জশিটের ভুল কলামে নাম দেওয়ায় সফটওয়্যারে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতিপ্রাপ্ত দেখাচ্ছে এবং এর দায় সম্পূর্ণ চার্জশিট দাখিলকারী কর্মকর্তার। তবে এসআই মেহেদুল ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তদন্তে যা পেয়েছেন তাই চার্জশিটে দিয়েছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ডিএনসির উপপরিচালক দিলারা রহমান অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলার কথা জানিয়েছেন এবং নিজে কোনো অপরাধে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।