ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর য় : প্রায়ই আমার মনে হয়, ২০১৯ সালটাই সুন্দর ছিলো। হতে পারে আমার জীবনটাই এমন। ২০১৯ সালকে ফিরে দেখলে মনের কোণে এক গভীর নস্টালজিয়া আর অদ্ভুত শান্তির অনুভূতি জেগে ওঠে। জীবনের স্বাভাবিক গতি, স্বাধীনতা এবং নিশ্চিন্ত আনন্দের এক অপূর্ব অধ্যায় ছিল সেই বছরটি। পরবর্তী বছরগুলোর আকস্মিক অস্থিরতা আর মহামারী-পরবর্তী পৃথিবীর সাথে তুলনা করলে ২০১৯ সালকে একটি ‘স্বর্ণযুগ’ বলেই মনে হয়।
সে বছর জীবনটা এত জটিল ছিল না। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বা প্রতি মুহূর্তে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের মতো কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। কোনো দ্বিধা বা ভয় ছাড়াই আমরা প্রিয়জনদের আলিঙ্গন করতে পারতাম, প্রিয় মানুষের হাত ধরে দীর্ঘ পথ হাঁটতে পারতাম। রেস্তোরাঁয় ভিড় করে খাওয়াদাওয়া, সিনেমা হলে প্রিয় অভিনেতার ছবি দেখা কিংবা মেলা ও কনসার্টে চুটিয়ে আড্ডা দেওয়া ছিল আমাদের নিত্যদিনের সহজ আনন্দ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মুখরিত প্রাঙ্গণ, বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসের আড্ডা কিংবা কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততার পর কোনো চায়ের দোকানে জমানো গল্প – সবকিছুতেই এক ধরনের স্বাভাবিক ছন্দ ছিল। পৃথিবীর বুকজুড়ে ভ্রমণের স্বাধীনতা ছিল উন্মুক্ত; হুটহাট ব্যাগ গুছিয়ে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্য এত নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করতে হতো না।
প্রযুক্তি ও তরুণ প্রজন্মের নতুন নতুন স্বপ্নের জোয়ার সে বছর দারুণ গতি পেয়েছিল। সামগ্রিকভাবে, ২০১৯ সাল ছিল বিশ্বব্যাপী এক নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ পরিবেশের প্রতীক।
২০১৯ এর পর সেই অর্থে আনন্দময় সাল আর পাইনি।
তখনও করোনা আসেনি, অনেক দুঃখ জমা হয়নি, এতটা বড় হয়ে উঠিনি। টুকটাক সমস্যা ছিলো বটে, তবে কত কী ভালো লাগাও ছিলো। কত কী রঙিন স্মৃতি ছিলো। এরপর করোনা এলো, জীবনও ক্রমশ কেমন বদলে যেতে থাকলো। ভালো লাগা কমতে থাকলো। করোনা অবশ্য গেলো। সাথে করে জীবনের অনেক উচ্ছ্বাসও যেন নিয়ে গেলো। আগের সেই ‘বেশ গোছালো’ জীবন আর পেলাম না এরপর। কেমন যেন! সেই অর্থে আর ভালো বছর পাইনি। কোনোটা মন্দ, কোনোটা মন্দের ভালো। শুধু দেখছি আর ভাবছি, কিভাবে একেকটা বছর পার হয়ে যাচ্ছে! নতুন বছর আসছে। কত দ্রুত বড় হয়ে গেছি ও যাচ্ছি।
তবে এই বছরটি আমাকে শিখিয়েছে যে, দৈনন্দিন জীবনের অতি সাধারণ মুহূর্তগুলোই আসলে কতটা মহামূল্যবান হতে পারে।

