যুক্তরাষ্ট্রে কাজ হারানোর ঝুঁকিতে ভারতীয়রা, এইচ-৪ visa নীতিতে কড়াকড়ি

১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (2026) তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারীদের নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীদের কাজের সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এই নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে নির্দিষ্ট এইচ-৪ ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রীরা আর কাজের অনুমতির (ইএডি) জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় পরিবারগুলো সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয় এবং এটি কার্যকর হতে হলে আরও কয়েকটি আইনি ধাপ পার হতে হবে। প্রথমত, ডিএইচএস-কে ফেডারেল রেজিস্টারে ‘নোটিশ অব প্রপোজড রুলমেকিং’ প্রকাশ করতে হবে এবং এরপর সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত নিয়ম জারি করা হবে। এই আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধ ইএডি থাকা যোগ্য এইচ-৪ ভিসাধারীরা বর্তমান নিয়মে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের প্রায় ৭১ শতাংশই ছিল ভারতীয় নাগরিকদের। এছাড়া, ২০১৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত অনুমোদিত এইচ-৪ ইএডি-ধারীদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই ছিলেন ভারতীয় নাগরিক, যাদের ৯৪ শতাংশই নারী। ফলে এই নিয়ম বাতিল হলে ভারতীয় নারীরাই সবচেয়ে বেশি কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

ডিএইচএসের দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রক কার্যসূচির অংশ হিসেবে প্রস্তাবটি দেশটির নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমের সরকারি ওয়েবসাইট Reginfo.gov-এ অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের অধীনে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রস্তাবটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Removing H-4 Dependent Spouses From the Classes of Noncitizens Eligible for Employment Authorisation’, যার সহজ অর্থ ‘কর্মসংস্থানের অনুমতি পাওয়ার যোগ্য অ-নাগরিকদের শ্রেণি থেকে এইচ-৪ নির্ভরশীল স্বামী-স্ত্রীকে বাদ দেওয়া’। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের চালু করা নিয়মটি বাতিল করে আগের নীতিতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে এইচ-৪ ভিসাধারীরা ইএডির জন্য আবেদন করতে পারেন। এর মধ্যে এইচ-১বি ভিসাধারী স্বামী বা স্ত্রীদের অনুমোদিত ফরম আই-১৪০ থাকা অন্যতম শর্ত। এছাড়া নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এইচ-১বি ভিসার ছয় বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সময় বাড়ানো হলে ইএডির জন্য আবেদন করা যায়। ইএডি ছাড়া এইচ-৪ ভিসাধারীরা চাকরি করতে না পারলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়া এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পান।

এইচ-৪ ইএডি ব্যবস্থা বাতিলের চেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালেও এই কর্মসংস্থানের অনুমতি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা পরে ২০২১ সালে প্রত্যাহার করা হয়। এবারের নতুন প্রস্তাবটি মূলত সেই আগের কঠোর নীতি ফিরিয়ে আনারই চেষ্টা। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মীদের জন্য আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে নতুন এইচ-১বি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি আরোপ এবং চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নেওয়ার জন্য বর্তমানে পাওয়া ৬০ দিনের সময়সীমা বাতিলের উদ্যোগও রয়েছে।