মার্কিন মুদ্রায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখ ও তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনকাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের মুখ স্থান পেয়েছে দেশটির মুদ্রায়। এক শতাব্দীতে এমন নজির সচরাচর দেখা যায় না। তবে ট্রাম্পই প্রথম নন, এর আগেও দেশটির ইতিহাসে একজন জীবিত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মুদ্রায় স্থান দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে টাঁকশালের ওয়েবসাইটে এই মুদ্রাগুলো বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সেখানে ২৫টি মুদ্রার একটি রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬১ ডলার এবং ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম রাখা হয়েছে ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে। তাঁর পিতা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন নিউইয়র্কের নামকরা আবাসন ব্যবসায়ী এবং মা মেরি ট্রাম্প ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ট্রাম্প ছিলেন চতুর্থ। শৈশবে অত্যন্ত চঞ্চল ও দুরন্ত স্বভাবের হওয়ায় তাঁকে নিউইয়র্ক মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করানো হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ট্রাম্প।

লেখাপড়া শেষ করে ট্রাম্প তাঁর বাবার ব্যবসায় যোগ দেন। পিতা অত্যন্ত ধনী হলেও ট্রাম্পকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে একেবারে সাধারণ ও ছোট একটি পদ দিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি পৈতৃক ব্যবসার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটান। ধীরে ধীরে তিনি হোটেল, বহুতল ভবন, গলফ কোর্স ও ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন খাতে নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শোবিজ জগতেও তাঁর অবাধ যাতায়াত ছিল। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বিখ্যাত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস ইউনিভার্স’-এর স্পনসর ছিলেন। এছাড়া ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ নামের একটি জনপ্রিয় টিভি রিয়্যালিটি শো উপস্থাপনা করে তিনি তারকাখ্যাতি লাভ করেন এবং বিভিন্ন রেসলিং ম্যাচও উপস্থাপনা করেছেন। তবে ব্যবসায়িক জীবনে তিনি বেশ কয়েকবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে বাধ্য হন এবং নানা ধরনের মামলার মুখোমুখি হন।

ব্যক্তিগত জীবনে ডোনাল্ড ট্রাম্প তিনবার বিয়ে করেছেন এবং তিনি পাঁচ সন্তানের জনক। তাঁর প্রথম স্ত্রী ছিলেন চেক মডেল ইভানা, যাঁর সাথে ১৯৯২ সালে তাঁর বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ১৯৯৩ সালে তিনি মার্লা ম্যাপলসকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯৯ সালে তাঁদেরও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০০৫ সালে ট্রাম্প মডেল মেলানিয়াকে বিয়ে করেন, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনীতিতে আসার আগে ট্রাম্প মূলত একজন ধনকুবের ব্যবসায়ী ও সেলিব্রিটি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৫ জুন তিনি আচমকা প্রেসিডেন্ট পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। শুরুতে অনেকেই তাঁর এই ঘোষণাটিকে গুরুত্ব দেননি এবং এটি নিয়ে বেশ হাসাহাসিও হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনা-কল্পনা ও ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণ করে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিলারি ক্লিনটনকে নাটকীয়ভাবে পরাজিত করেন তিনি। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের প্রশাসন ও তাঁর বিভিন্ন নীতি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই তিনি রাশিয়া ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি প্রকাশ্যে নিজের অনুরাগের কথা জানিয়ে আসছিলেন। অভিবাসী, মুসলমান, নারী ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে তাঁর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগও ওঠে। এমনকি নির্বাচনে ট্রাম্পকে জেতাতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পর মুসলিম দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ একের পর এক বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ জারি করেন তিনি। তাঁর বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নীতিমালার কারণে প্রথম বছরই তাঁর প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিদায় নেন। নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যেও তিনি দ্বিতীয় দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে রেখেছেন।

prothomalo-bangla/2026-07-02/axph83hl/us-president.avif

prothomalo-bangla/2026-09-03/v3w701se/US-coin.webp