শৈশব থেকেই সংগীতের আবহে বেড়ে ওঠা সাবিনা ইয়াসমিন আজ ৭৩ বছরে পদার্পণ করলেন। তার সংগীতে হাতেখড়ি হয়েছিল মায়ের কাছেই। মাত্র ছয় বছর বয়সে ‘অল পাকিস্তান স্কুল মিউজিক কম্পিটিশনে’ প্রথম পুরস্কার অর্জন করার মাধ্যমেই তার সংগীত জীবনের সম্ভাবনাময় যাত্রার শুরু হয়। পরবর্তীতে শিশু শিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রের গানেও তিনি কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গানে প্লেব্যাক করার মধ্য দিয়ে তার পেশাদার সংগীতজীবনের পথচলা শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের গানের অন্যতম প্রধান কণ্ঠ হয়ে ওঠেন। কবরী, ববিতা ও শাবানাসহ বিভিন্ন প্রজন্মের অভিনেত্রীদের ঠোঁটে তার গাওয়া গান দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেছে।
সাবিনা ইয়াসমিনের সংগীতের পরিধি কেবল চলচ্চিত্রের গানে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আধুনিক, দেশাত্মবোধক, পল্লীগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত ও গজলসহ সংগীতের নানা ধারায় তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন। তার দীর্ঘ সংগীতময় জীবনে রেকর্ড হয়েছে হাজার হাজার গান।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন তিনি। সংগীতের ধরন ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে সংগীতের ধারা বদলালেও সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠের আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি। কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে তার গান আজও সমান জনপ্রিয়, যা তাকে বাংলা সংগীতে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত রেখেছে।
দীর্ঘ পথচলায় সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন ও প্রযুক্তি বদলেছে। কিন্তু সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠের আবেদন কমেনি। কয়েক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে তার গান এখনো সমান জনপ্রিয়। তাই ৭২ বছর পেরিয়ে ৭৩ বছরে পা দিলেও বাংলা সংগীতে সাবিনা ইয়াসমিন আজও অনন্য।

