পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার দীর্ঘদিনের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন। নির্মাতা মোহাম্মদ ইকবালের নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’-তে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সম্প্রতি তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। কলকাতা থেকে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে মধুমিতা বলেন, কাজটি নিয়ে তিনি অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। অনেক বছর ধরেই তার বাংলাদেশে কাজের পরিকল্পনা ছিল, যা অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।
সিনেমার গল্প ও নিজের চরিত্র সম্পর্কে অভিনেত্রী জানান, চিত্রনাট্যটি অত্যন্ত চমৎকার এবং তার চরিত্রটি বেশ বৈচিত্র্যময়। কলকাতায় বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও, এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ তার কাছে নতুন। তিনি উল্লেখ করেন যে, চরিত্রটিতে অনেকগুলো স্তর রয়েছে, যা তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। সিনেমাটি মূলত রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে উপজীব্য করে নির্মিত হচ্ছে। এর কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একজন যৌনকর্মীকে ঘিরে, যিনি কোনো অপরাধ না করেও ক্ষমতার নির্মম খেলার শিকার হন। এই সিনেমার আরেকটি বিশেষ দিক হলো, এতে প্রচলিত কোনো নায়ক নেই; বরং পুরো গল্পটিই একজন নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের দিকে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সহশিল্পী হিসেবে আর কে কে থাকছেন, তা সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট ধারণা নেই বলে জানিয়েছেন মধুমিতা। বাংলাদেশের দর্শকদের প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বোঝে না সে বোঝে না’ ধারাবাহিকের সময় থেকেই তিনি বাংলাদেশি দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার জন্য তিনি মুখিয়ে আছেন।
বাংলাদেশের নাটক ও সিনেমা নিয়মিত দেখেন জানিয়ে মধুমিতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘পিপড়াবিদ্যা’, ‘টেলিভিশন’, ‘থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার’ এবং গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’-কে নিজের পছন্দের তালিকায় রাখেন। এছাড়া মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে এবং চঞ্চল চৌধুরী ও শাকিব খানের সঙ্গে ভবিষ্যতে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালে এনটিভিতে প্রচারিত ‘মেঘবালিকা’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন, তবে বড় পর্দায় এটিই তার প্রথম কাজ।

