খুলনার রায়েরমহল কলেজ পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকতার। তিনি এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনের অনুলিপি শিক্ষামন্ত্রী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. আকতারের ভাষ্যমতে, রাশিদুল ইসলামের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা গ্রহণ এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময় আলোচিত শেখ বাড়ির কর্তাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এছাড়া খুলনা মহানগর যুবলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতার সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে যে, রাশিদুল ইসলাম ছাত্রজীবনে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে তিনি রায়েরমহল কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষের অন্যতম কারণ হলো, রায়েরমহল এলাকায় অনেক শিক্ষিত, যোগ্য এবং জমিদাতা ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও বাইরের এলাকার একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাশিদুল ইসলামকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে রাশিদুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল পুরো বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

