৫০০ কোটি টাকার কোম্পানি সরাসরি পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ পেল

বড় ও মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করে মূলধন সংগ্রহের পথ সহজ করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, যেসব বড় কোম্পানির বার্ষিক লেনদেন বা সম্পদের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা, তারা এখন থেকে সহজে সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এর ফলে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) জন্য কোম্পানিগুলোকে আর একাধিকবার নিরীক্ষার প্রয়োজন হবে না, একবার করলেই চলবে।

শনিবার চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলনকক্ষে চট্টগ্রাম চেম্বার ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট: গ্রোথ ডায়ালগ-পাথওয়ে টু লিস্টিং’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসার টেকসই উন্নয়নের জন্য অর্থবাজারের চেয়ে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ অধিক কার্যকর। তবে তালিকাভুক্তির দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক উদ্যোক্তা পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হন না। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানিগুলো করপোরেট করহারে ছাড়, সহজে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি এবং কৌশলগত ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মতো বাড়তি সুবিধা পায়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের গড় লেনদেন বাজার মূলধনের মাত্র শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ। এই গড় লেনদেন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব হলে তা শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছাবে।

সংলাপে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, তালিকাভুক্তির পর বিভিন্ন নিয়মের জটিলতা এবং লভ্যাংশ প্রদানের বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক ব্যবসায়ী পুঁজিবাজারে আসতে চান না। তিনি পরামর্শ দেন, ব্যবসা লাভজনক হলে লভ্যাংশ প্রদান এবং লোকসান হলে তা না দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। এছাড়া আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সমন্বয় ও ঐকমত্যের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে পঙ্গু অবস্থায় রয়েছে এবং একে গতিশীল করতে একটি শক্তিশালী কমিশনের প্রয়োজন। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান করপোরেট সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। এছাড়া আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদ সাত্তার পুঁজিবাজারের করসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে বিএসইসি ও এনবিআরের সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানান।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বড় কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে চট্টগ্রাম চেম্বার বিএসইসির সঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়িক খাতের বিভিন্ন নীতিনির্ধারক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন।