পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে রাজি জেলেনস্কি, মাসে ১০০ ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শুক্রবার কানাডায় জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসার বিষয়ে কোনো দ্বিধা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি আরও বলেন, তাদের মুখোমুখি বসে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ কথার চেয়ে কাজের ফলাফলই এখন সবচেয়ে জরুরি।

যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের বর্তমান অবস্থান নিয়ে জেলেনস্কি দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় তার দেশ এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি জানান, যুদ্ধের ধীরগতির কারণে রাশিয়া বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে এবং ইউক্রেন আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কিয়েভ এই মাসেই শান্তি আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী হলেও ক্রেমলিন জানিয়েছে, বৈঠকের স্থান বা তারিখ নির্ধারণের জন্য এটি এখনো খুবই প্রাথমিক পর্যায়।

শান্তি আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, রাশিয়া বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১৪০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। এগুলো মোকাবিলায় ইউক্রেনের প্রতি মাসে অন্তত ২৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন। জেলেনস্কি স্বীকার করেন, মাসে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র জোগাড় করাই এখন ইউক্রেনের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। তিনি মিত্রদের কাছে এই ঘাটতি পূরণে সামরিক সরঞ্জাম সহায়তা চেয়েছেন।

ডয়চে ভেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সফরকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মস্কোর পাশাপাশি কিয়েভে তাদের সফর ইউক্রেনের জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক। এদিকে ওয়াশিংটন দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরুর জন্য চাপ দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন বলেও জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ও পুতিন টেলিফোনে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।