মতিঝিল ও আশুলিয়ায় তাজা বোমা ও আইইডি উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঢাকার ব্যস্ততম দুই মেট্রোরেল স্টেশনে সন্দেহজনক বস্তু পাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ফার্মগেট ও মিরপুর মেট্রোস্টেশন এলাকায় পরিত্যক্ত দুটি বস্তা ঘিরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশি পাহারায় স্টেশনগুলোতে সাময়িকভাবে চলাচল সীমিত করা হয়েছিল। তবে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছে যে, বস্তুগুলো আসলে বিপজ্জনক কিছু নয়। এর আগে গত ২৪শে জুলাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার শোভাযাত্রা চলাকালে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে থেকে একটি বিস্ফোরক উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিষ্ক্রিয় করেছিল।
গতকাল সকালে মিরপুর মেট্রোস্টেশনের দ্বিতীয়তলায় একটি বড় শপিংব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই আশঙ্কা করেন ব্যাগের ভেতরে বোমা থাকতে পারে। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং স্টেশনে যাত্রী চলাচল সীমিত করা হয়। সিটিটিসি’র বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে নিশ্চিত হয় যে, ব্যাগের ভেতরে কোনো বিস্ফোরক নেই; বরং সেখানে পান, সুপারি ও জর্দার কৌটা ছিল। একই সময়ে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচেও একটি বস্তা ঘিরে বোম আতঙ্ক তৈরি হয়। সেখানেও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পরীক্ষা করে জানায়, বস্তার ভেতর কেবল ময়লা-আবর্জনা ছিল। কোনো ক্ষতিকর কিছু না থাকলেও এর বাহ্যিক গঠন আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।
কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল জানিয়েছেন, মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট স্টেশনের এই বোমাসদৃশ বস্তুর কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, মিরপুর-১০ স্টেশনে পাওয়া ব্যাগে সাধারণ কিছু জিনিসপত্র ছিল এবং ফার্মগেটের বস্তায় ছিল পরিত্যক্ত ময়লা। তাই এই দুটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কোনো অপরাধী চক্র বা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আমরা সবদিক খতিয়ে দেখছি।

