আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং বিশ্ব ইজতেমা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলীগ জামাতের বাংলাদেশ প্রতিনিধিগণের (সাদপন্থী) সঙ্গে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, তাবলীগ জামাতের উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সমঝোতার মাধ্যমে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সাদপন্থী ও জুবায়েরপন্থী—উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর আগামী ২০২৫ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।
টঙ্গীর ময়দান ব্যবহার নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাদপন্থী অনুসারীদের টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা না করার কথা ছিল। তবে আজকের বৈঠকে তারা সেই সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করে সেখানে অংশগ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এমনকি তারা দুই পর্বের ইজতেমা শেষে রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। মাওলানা সাদ সাহেবের আগমনের বিষয়টি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত সময়ের তুলনায় অপরাধ চিত্র অনেক নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সংকলিত তথ্যানুযায়ী হত্যা, অপহরণ ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধের হার হ্রাস পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক শিক্ষিকা ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার ও আলামত জব্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে এবং কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে গাফিলতির তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাবলীগ জামাতের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জুবায়েরপন্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুরূপ একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

