জর্ডানের আকাবা উপসাগরের নিকটবর্তী ‘ক্যাম্প তিতিন’-এ অবস্থিত মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গত মঙ্গলবার রাতে এই হামলা চালানো হয় বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ক্যাম্পের বেশ কয়েকটি স্থাপনা এবং শত্রুপক্ষের বেশ কিছু ‘অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
এর আগে গত মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার জবাব দিতেই এই পাল্টা আঘাত চালানো হয়েছে এবং তাদের এ ধরনের প্রতিরোধমূলক হামলা অব্যাহত থাকবে।
চলতি বছরের জুলাই মাসের পর গত রোববার রাতে প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে অত্যন্ত ‘কঠোর’ আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের সেই হুমকির পরই মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানে ব্যাপক হামলা চালায় মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্সের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর কুহেস্তাকের একটি residential বা আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এছাড়া দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সতর্ক করে বলেছেন, এই হামলার বিপরীতে ইরান যদি নতুন করে কোনো পাল্টা আঘাত হানে, তবে তাদের ওপর আরও ভয়াবহ ও কঠোর হামলা চালানো হবে।

