নেপালে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা, নতুন প্লাবনের আশঙ্কায় আতঙ্ক

ত্রিশূলী নদীর উপত্যকায় নিখোঁজ স্বজনদের হন্যে হয়ে খুঁজছেন স্থানীয় নেপালিরা। চলতি সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় তাদের পুরো গ্রাম ভেসে গেছে। প্রিয়জনদের কোনো খবরের আশায় ক্ষতিগ্রস্তরা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছেন। এনডিটিভি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বন্যার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পর্বতারোহী সানজিত সিং বাল জানান, এটি একটি হিমবাহ ধসের ঘটনা। প্রায় ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় প্রায় এক কিলোমিটার আয়তনের একটি হিমবাহ ধসে নিচে নেমে আসে। খাড়া ঢাল বেয়ে নামার সময় এটি প্রচুর পাথর ও কাদামাটি সঙ্গে নিয়ে নিচে আছড়ে পড়ে। নেপাল হিমালয় ও পর্বত গবেষক ধনঞ্জয় রেগমি জানিয়েছেন, বন্যার জলের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। বর্তমানে ওই এলাকায় তিনটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যা নতুন বিপদের সংকেত দিচ্ছে।

স্নোস্কেপসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার আশুতোষ মিশ্র বরফধসের পেছনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভূমিকা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল হ্রদের ভাঙন থেকে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে দেখা গেছে, লাংটাং লেরুংয়ের ৭ হাজার মিটার উঁচু শৃঙ্গ থেকে প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি হিমবাহ ধসে পড়েছিল। হ্রদগুলো এক্ষেত্রে মুখ্য নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন করে পাথর ধসে পড়লে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হিসেবে হ্রদে জমা পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে বের করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন তারা।

তবে বন্যার কারণ বা দ্বিতীয় দফা বন্যার ঝুঁকির চেয়েও নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে পাওয়া বন্যাকবলিতদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। নিখোঁজ ভাইয়ের ছবি হাতে এক ব্যক্তি বলেন, তারা আমাদের স্বজন হোক বা না হোক, যিনিই আটকে আছেন তাকে বাঁচাতে হবে। অন্য সবার বন্ধুদের রক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, তার কেবল একজন ভাই নিখোঁজ, তবে সকল নেপালিই তাদের আপন ভাই।