রাজপরিবারের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্কের জেরে ছয় বছর আগে যুক্তরাজ্য ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। সম্প্রতি তাঁরা আবার যুক্তরাজ্যে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিজাত এলাকা মন্টেসিটোয় তাঁদের এই বিদায়ের খবরটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। বিশ্বখ্যাত তারকা ও ধনকুবেরদের এই শহরে হ্যারি-মেগানের চলে যাওয়ার বিষয়টি যেন পাশের বাড়ির কারও বাসা বদলানোর মতোই স্বাভাবিক একটি ঘটনা।
মন্টেসিটোর বাসিন্দা ও লেখক অ্যান লুইস বারডাখ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, সেখানে ব্যাংক ডাকাতি বা স্থানীয় চিড়িয়াখানার ক্যাপিবারা নামের প্রাণী হত্যার মতো খবর থাকলেও হ্যারি-মেগানের চলে যাওয়ার বিষয়ে তেমন কোনো আলোচনা নেই। তিনি বলেন, এখানে অপরাহ উইনফ্রের মতো তারকারা বাস করেন, তাই হ্যারি-মেগানের বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছে খুব একটা বড় খবর নয়। ২০২০ সালে রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ৯ হাজার বাসিন্দার এই ছোট শহরে তাঁরা বসবাস শুরু করেছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হ্যারি-মেগানের সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয় খুবই সীমিত ছিল। আশপাশে থাকেন জেফ ব্রিজেস, রব লো, গিনেথ প্যালট্রো, অরল্যান্ডো ব্লুম, ক্যাটি পেরি, অপরাহ উইনফ্রেসহ আরও অনেক হলিউড তারকা। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হ্যারি অ্যান্ড মেগান’ তথ্যচিত্রের কিছু অংশও কাছের একটি বাড়িতে ধারণ করা হয়েছিল। ২১ বছর বয়সী রায়ান সুজা বলেন, তাঁরা কোথায় থাকবেন সেটা একান্তই তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়। একইভাবে ৭৬ বছর বয়সী বুজ বনসাল জানান, হ্যারি-মেগানের চলে যাওয়া নিয়ে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। রিভেন রক এলাকায় তাঁদের বাড়ির কাছে বসবাসকারী জিনা পেনিনো জানান, দেখা হলে তাঁরা হাত নাড়লেও খুব একটা যোগাযোগ হতো না।
হ্যারি ও মেগানের কয়েক কোটি ডলারের বাড়িটি উঁচু দেয়াল ও কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা ছিল। তাঁদের সামাজিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণেই প্রতিবেশীদের কাছে তাঁরা বেশি পরিচিত ছিলেন। নিরাপত্তা অ্যালার্ম বেজে ওঠা বা ভুল করে প্রতিবেশীর কুকুর ভেতরে ঢুকে পড়ার মতো ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি কথা বলার সুযোগ খুব একটা ছিল না।
ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকাকালীন হ্যারি ও মেগান আলোকচিত্রী ও সংবাদকর্মীদের পিছু নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। এ নিয়ে তাঁরা মামলা করেছিলেন। ২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেগান ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডগুলোর বর্ণবাদী আচরণের কারণে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল বলেও জানিয়েছিলেন। মন্টেসিটোর একটি সাইকেলের দোকানের মালিক জেনিফার ব্লেভিনসের সঙ্গে হ্যারি–মেগানের একবার যোগাযোগ হয়েছিল। ২০২৩ সালে আর্চির চতুর্থ জন্মদিনে তাঁরা তাকে একটি সাইকেল উপহার দেন।
রাজপরিবার নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক এলিজাবেথ হোমস মনে করেন, রাজা তৃতীয় চার্লসের শারীরিক অবস্থার কারণে তাঁদের এই ফেরাটা অস্বাভাবিক নয়। তবে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর সন্তানদের গোপনীয়তা রক্ষা ও সংবাদমাধ্যমের নজরদারির চ্যালেঞ্জ তাঁদের মোকাবিলা করতে হবে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাস নিয়ে কাজ করা লেখক ডিজে ওয়াল্ডি বলেন, তারকাদের সঙ্গে এই অঞ্চলের সম্পর্ক বরাবরই অস্থায়ী, যা হ্যারি-মেগানের ক্ষেত্রেও সত্য বলে প্রমাণিত হলো।
তাঁদের চলে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল এক শব্দে, ‘কিছুই না।’ তিনি বলেন, ‘তাঁরা যেখানে যেতে চান, যেতে পারেন।’.মন্টেসিটোর রিভেন রক এলাকায় হ্যারি–মেগানের বাড়ির কাছেই থাকেন ৭২ বছর বয়সী জিনা পেনিনো।
নেটফ্লিক্সের তথ্য অনুযায়ী, তথ্যচিত্রটি ২ কোটি ৮০ লাখের বেশি পরিবার দেখেছিল।.তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে হ্যারি–মেগান তাঁদের সামাজিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে।প্রতিবেশীরা এই দম্পতির সঙ্গে খুব একটা কথা না বললেও তাঁদের নিরাপত্তাকর্মী, কুকুর হাঁটাতে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি, সন্তানদের দেখাশোনার

