বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব। গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এই সাক্ষাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনসহ সংগঠনের শীর্ষ পাঁচ নেতা উপস্থিত ছিলেন। ২০২৪ সালের ১ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রায় আড়াই বছর পার করেছেন এই কমিটি।
সাক্ষাতের পর ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ পোস্টে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি তারেক রহমান, প্রয়াত খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাকিবুল তার কমিটির সবচেয়ে বড় সফলতা হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজপথে কার্যকর ভূমিকা পালনকে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শত শত ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণ) মোকাবিলা করতে হয়েছে। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং দলের বাইরেও তাদের সমস্যার সমাধানে নিজের চেষ্টার কথা তিনি স্মৃতিচারণ করেন।
শুক্রবার সকালে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনও ফেসবুকে একটি বিদায়ী পোস্ট দিয়েছেন। তিনি এটিকে একটি ঘটনাবহুল ও গৌরবের অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নাছির জানান, জুলাই-আগস্টের উত্তাল সময়ে নেতা-কর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা এবং আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা ছিল তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও আবদুল কাদেরসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন।
নাছির উদ্দীন আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নানা ধরনের অপপ্রচার ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ‘মব সংস্কৃতি’ মোকাবিলা করা ছিল তাদের জন্য অন্যতম কঠিন বাস্তব। দায়িত্ব পালনকালে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করার বিষয়টি তিনি নেতা-কর্মীদের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিদায়লগ্নে নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

