সুদানে গ্রামীণ আদালতে ড্রোন হামলা, নিহত ৩৫

আফ্রিকার দেশ সুদানের উত্তর দারফুর অঞ্চলের গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামে একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ আদালতের চত্বরে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ৩৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'ইমার্জেন্সি লয়ার্স' হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বিরোধ ও বিভিন্ন মামলা নিষ্পত্তির জন্য আদালতটি একটি গাছের নিচে গড়ে তোলা হয়েছিল। ঘটনার সময় সেখানে বিচারিক কার্যক্রম বা বিরোধ নিষ্পত্তির কাজে অনেক সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশ থেকে বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে আদালতসংলগ্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামটি কাবকাবিয়া শহরের সন্নিকটে এবং দারফুর অঞ্চলের সাবেক সেনাঘাঁটি আল-ফাশের থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর গত বছরের অক্টোবর মাসে আরএসএফ (RSF) এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের মানবাধিকার তদন্তকারীদের মতে, আল-ফাশের দখলের সময় আরএসএফের কর্মকাণ্ডে গণহত্যার স্পষ্ট আলামত পাওয়া গিয়েছিল।

২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানে সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং তাঁর সাবেক মিত্র আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে এরই মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দারফুর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই এখন ড্রোন হামলার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে উভয় পক্ষের ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংঘাত কোটি কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে।