পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে রাশিয়ার ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অংশ হিসেবেই ক্ষেপণাস্ত্রটি পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করে বলে জানা গেছে। এই হামলায় শিশুসহ অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত হওয়ার পর পোল্যান্ডসহ জোটের সদস্য দেশগুলো এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, একটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং একটি আকাশস্থ আগাম সতর্কীকরণ বিমান মোতায়েন করেছে। ন্যাটোর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, জোট তার ভূখণ্ড রক্ষায় সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এটি একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এছাড়া ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, একটি রুশ খ-১০১ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধ প্রতিবেশী ন্যাটো দেশগুলোকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলার ঝুঁকি তৈরি করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করায় এ ধরনের পথভ্রষ্ট ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঘটনা সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর জন্য এটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। রোমানিয়া, এস্তোনিয়া ও লাটভিয়াও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের আকাশসীমায় রুশ ড্রোন অনুপ্রবেশের খবর জানিয়েছে। গত বছর পোল্যান্ড এ ধরনের হুমকির মুখে তার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

