সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের ফলে আগামী রোববার ২০২২ সালের শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ পাচ্ছে দলটি। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল শারীরিক ফুটবলের প্রদর্শনী চালায়। দ্বিতীয় মিনিটেই লিয়ান্দ্রো পারেদেস জুড বেলিংহামকে ধাক্কা দিলে উত্তেজনার শুরু হয়। এরপর থেকেই দুই দল একে অপরকে চাপে রাখার চেষ্টা করে, তবে প্রথম কোয়ার্টারে গোলের কোনো ভালো সুযোগ তৈরি হয়নি।
১৯ মিনিটে মরগান রজার্সের একটি ক্রস ধরতে গিয়ে কিছুটা বেগ পেতে হলেও এমিলিয়ানো মার্তিনেজ প্রথম সেভটি করেন। এরপর ৩৫ মিনিটে মেসিকে ফাউল করায় এলিয়ট অ্যান্ডারসন এবং কিছুক্ষণ পর জেড স্পেন্সকে আটকাতে গিয়ে জার্সি টেনে ধরায় লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখেন। প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়। এই বিশ্বকাপে মিশর ম্যাচ বাদে প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ার ঘটনা আর্জেন্টিনার জন্য এটিই প্রথম।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার ছন্দ বদলে যায়। ৫৫ মিনিটে মরগান রজার্সের ক্রস থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপর ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো বেলিংহামকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখলে দুই সেন্টারব্যাকই লাল কার্ডের ঝুঁকিতে পড়ে যান। তবে ম্যাচের শেষের দিকে আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ শুরু করে। মেসির ক্রস থেকে নিকো গনসালেসের হেড জর্ডান পিকফোর্ড ঠেকিয়ে দিলেও ৮৬ মিনিটে আর পারেননি। শর্ট কর্নার থেকে বল পেয়ে এনজো ফের্নান্দেস সমতা ফেরান।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় যোগ করা সময়ে। ৯ মিনিট বাড়তি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির দারুণ এক ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজ হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় বাঁশি বাজতেই আর্জেন্টিনার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যায়।

