মদ পানের লাইসেন্স পেতে হাজারো তরুণীর আবেদন

পাশ্চাত্য অপসংস্কৃতির প্রভাবে বাংলাদেশে তরুণীদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা ক্রমেই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানীতে বসবাসকারী নারীদের একটি অংশ গাঁজা, ইয়াবা ও ইলেকট্রিক সিগারেটের মতো নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। এর বাইরেও বিপথগামী তরুণীদের একটি বড় অংশ নিয়মিত বারে গিয়ে মদ্যপান করছেন, যার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে নারকোটিক্সের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। চলতি বছর মদ পানের পারমিট বা লাইসেন্স পাওয়ার জন্য হাজারেরও বেশি তরুণী আবেদন জমা দিয়েছেন।

নারকোটিক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় ৭ শতাধিক তরুণীর নামে মদ্যপানের পারমিট ইস্যু করা হয়েছে এবং আরও কয়েকশ আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। রাজধানীর গুলশান, তেজগাঁও ও উত্তরা এলাকায় মদ্যপায়ী নারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র চলতি বছরেই গুলশানে ২৮৮ জন, উত্তরায় ২০৭ জন এবং তেজগাঁওয়ে ৬২ জন নারী মদ্যপানের লাইসেন্স নিয়েছেন। ধানমন্ডি, মতিঝিল, খিলগাঁও ও রমনা এলাকা থেকেও বিপুল সংখ্যক আবেদনের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন মদের বারে পেশাদার ‘বার গার্ল’ হিসেবে কর্মরত।

বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মুসলমানদের জন্য মদ পানের লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে বিশেষ কিছু শারীরিক রোগ নিরাময়ের প্রয়োজনে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সাপেক্ষে সীমিত অ্যালকোহল পানের অনুমতি দেওয়া হয়। আইনের এই ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনেক নারী পারমিট সংগ্রহ করছেন। এছাড়া নারকোটিক্সের কতিপয় অসাধু সদস্যের সহায়তা এবং ভুয়া বা নামসর্বস্ব চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

মাদকাসক্তির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে আহ্ছানিয়া মিশনের নারী মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে। শ্যামলীতে অবস্থিত ৪০ শয্যাবিশিষ্ট এই কেন্দ্রে বর্তমানে ৩১ জন নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ জনই ইয়াবা আসক্ত। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, গৃহিণী ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। আহ্ছানিয়া মিশনের পরামর্শক আঞ্জুমান আরা জানান, ১৭ বছরের কিশোরী থেকে ৪৮ বছর বয়সী নারীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন, যেখানে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের হার সর্বাধিক।

নারকোটিক্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ছয় বছরে সরকারি নিরাময়কেন্দ্রে ৩ হাজার ১০৬ জন নারী মাদকাসক্তির চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা সাধারণত বেসরকারি নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অসৎ সঙ্গ, পারিবারিক কলহ, হতাশা এবং পরিবারের সদস্যদের মাদক গ্রহণের অভ্যাস নারীদের এই পথে ঠেলে দিচ্ছে।

নারকোটিক্সের সম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ৬ বছরে শুধু সরকারি নিরাময়কেন্দ্রে ৩ হাজার ১০৬ জন নারী মাদকাসক্তির চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে সাধারণত ছিন্নমূল এবং হতদরিদ্র নারীদের একটি বড় অংশ সরকারি নিরাময়কেন্দ্রে ভর্তি হন। উচ্চ এবং মধ্যবিত্ত নারীদের বেশির ভাগই ভর্তি হন বেসরকারি নিরাময়কেন্দ

ভয়াবহ চিত্র : বেসরকারি সংস্থা আহ্ছানিয়া মিশন রাজধানীর শ্যামলীতে ৪০ শয্যাবিশিষ্ট একটি নারী মাদকাসক্ত নিরাময়কেন্দ্র পরিচালনা করে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩১ জন। এদের মধ্যে ২০ জনই ইয়াবা আসক্ত। চিকিৎসাধীনদের ১২ জন বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, একজন এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক, চারজন গৃহিণী, দুজন ব্যব