শারীরিক অসুস্থতায় পদত্যাগের পথে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলছিল। তবে সংবিধান অনুযায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তার কাছেই শপথ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি তার কাছেই শপথ নিয়ে সরকার গঠন করে। গত দুই বছরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি জানালেও বিএনপি তাকে দায়িত্বে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে সরকার ও বিএনপি রাষ্ট্রপতিকে মৌখিকভাবে পদত্যাগের অনুরোধ জানায়। এ সময় তিনি কিছুটা সময় চেয়েছিলেন। বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, শুক্রবার দুপুর নাগাদ তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষায় তার স্নায়ুবিষয়ক জটিলতা ধরা পড়েছে। পদত্যাগের পর তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ মে রাষ্ট্রপতি লন্ডন সফর করেন এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। ওই সফরে তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি জানার পরই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে বা পদত্যাগ করতে চাইলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।