মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ঋণের কিস্তি ও সুদের টাকা পরিশোধের চাপে কুব্বাত আলী বেপারী (৬০) নামের এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস দিয়ে নিজের জীবন শেষ করেছেন। সোমবার সকালে উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত কুব্বাত আলী ওই গ্রামের মৃত পাহালি বেপারীর ছেলে। তিনি দুই প্রবাসী সন্তানের জনক ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুব্বাত আলীর দুই ছেলেই প্রবাসে থাকেন। তবে বড় ছেলে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বিদেশে থাকলেও বাবাকে নিয়মিত কোনো টাকা-পয়সা পাঠাতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য ছেলেও দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে আশানুরূপ আয় করতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় চরম পারিবারিক আর্থিক অনটনের পাশাপাশি সুদে নেওয়া কয়েক লাখ টাকার ঋণের চাপে পড়েন কুব্বাত আলী।
প্রতিবেশীরা জানান, সোমবার সকালে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়িতে ফেরেন কুব্বাত আলী। এর কিছুক্ষণ পর তিনি নিজের শয়নকক্ষে গিয়ে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। স্থানীয় বাসিন্দা হাশেম বলেন, বড় ছেলে দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকেও বাবাকে টাকা দিতেন না এবং ছোট ছেলেও বিদেশ গিয়ে ভালো আয় করতে পারেননি। ফলে কুব্বাত আলী অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
খবর পেয়ে হরিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক আর্থিক অনটন ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কুব্বাত আলী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

