বাংলাদেশে পাঠানো নারীর স্বামীকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

গৌহাটি হাইকোর্ট আসামের মুমতাজ বেগম নামের এক নারীকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তার স্বামীকে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লাখ রুপি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল চলমান থাকা অবস্থাতেই ওই নারীকে কথিত বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তার স্বামী মুজাম্মেল হক আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন করেছিলেন।

আদালতের বিচারপতি কল্যাণ রায় সুরানা ও বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের বেঞ্চ গত ৩রা সেপ্টেম্বর এই ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মুমতাজ বেগমকে ভারত থেকে বহিষ্কার করার আগে তার স্বামী বা পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রক্রিয়াগত এই গুরুতর ত্রুটির কারণে আসাম সরকারকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মুজাম্মেল হক চাইলে দেওয়ানি আদালতে আরও বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন বলেও হাইকোর্ট জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে এই মামলার কার্যক্রমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে মুমতাজ বেগমের বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করে তাকে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া পুরো ঘটনাটি তদন্ত করতে আসামের স্বরাষ্ট্র বিভাগকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালে নগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল মুমতাজ বেগমকে বিদেশি ঘোষণা করে। এর বিরুদ্ধে তিনি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন এবং দাবি করেন যে ১৯৭১ সালের আগের ভোটার তালিকায় তার দাদার নাম রয়েছে এবং এর সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিও তার কাছে আছে। চলতি বছরের এপ্রিলে গৌহাটি হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালের ওই আদেশ বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠান। কিন্তু গত ৩০শে মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার পর মুমতাজকে আটক করে মাতিয়া ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, গত ১৪ই জুন তাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালত এই পদক্ষেপকে নিয়মবহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।