বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। চুক্তিটি নতুন করে কার্যকর করার লক্ষ্যে দুই দেশের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছেন। এ বিষয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে, যাদের দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই চুক্তি নবায়নের মূল কাজ শুরু হবে।
ঢাকার নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের পরই চুক্তি নবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকালে এই বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে স্থান পাবে। ওই সফরের সময়ই চুক্তি নবায়নের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটির মূল লক্ষ্য ছিল শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা বাঁধে গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। ১৯৭৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর ওপর এই বাঁধটি নির্মাণ করেছিল ভারত। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রবাহিত ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে অন্যতম এই গঙ্গা নদীর পানিপ্রবাহ ঋতুভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়ে থাকে।
৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে প্রতি পাঁচ বছর পর পর এর কার্যকারিতা পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। তবে দুই দেশের যেকোনো সরকার চাইলে এর আগেও পর্যালোচনার উদ্যোগ নিতে পারে। এমনকি চুক্তির প্রভাব মূল্যায়নের জন্য যেকোনো পক্ষ দুই বছর পরেই পর্যালোচনার দাবি উত্থাপন করতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছরের শুষ্ক মৌসুমে অর্থাৎ ১লা জানুয়ারি থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত প্রতি ১০ দিন অন্তর পানি বণ্টন করা হয়ে থাকে।
চুক্তির ফর্মুলা অনুযায়ী, ফারাক্কায় পানির প্রবাহ যদি ৭০ হাজার কিউসেকের কম হয়, তবে বাংলাদেশ ও ভারত সমান অনুপাতে পানি পাবে। পানির প্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ সুনির্দিষ্টভাবে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে এবং অবশিষ্ট পানি পাবে ভারত। আবার প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক এবং বাকি অংশ পাবে বাংলাদেশ। তবে কোনো কারণে পানির প্রবাহ যদি ৫০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে যায়, সে ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে জরুরি বৈঠক ডাকার নিয়ম রয়েছে। ফারাক্কা ফিডার ক্যানেল এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নেভিগেশন লকের পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে গঠিত যৌথ কমিটি দুই দেশের সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দেয়।

